1. Shokti24TV2020@gmail.com : Shokti 24 TV admin :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

শতশত মানুষের মৃত্যুতে ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৪ Time View
দিল্লিতে পার্ক, খোলা মাঠ ও পার্কিং লট অস্থায়ী শ্মশান - ছবি : সংগৃহীত

করোনায় আক্রান্ত হয়ে শতশত মানুষের মৃত্যুতে ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সোমবারও দিল্লিতে সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো ৩৮০। শহরের হাসপাতালগুলোতে জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিইউ বেড সব ভর্তি। সঙ্কট চলছে অক্সিজেন ও প্রাণরক্ষাকারী ওষুধের।

এর মধ্যে দেশজুড়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। সোমবারও ভারতে নতুন কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা ছিলো তিন লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ জন। আগের দিনে ছিলো তিনি লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি।

মৃত্যু ধামাচাপা
অভিযোগ উঠেছে সরকার করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করছে। ভারত ও ভারতের বাইরে নির্ভরযোগ্য অনেক পত্র-পত্রিকায় মৃতের সংখ্যা ধামাচাপা দেয়ার কথা প্রমাণসহ প্রকাশ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ভোপাল শহরে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ১৩ দিনে করোনায় মৃত্যু সরকারি সংখ্যা মাত্র ৪১ হলেও তাদের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে ও একই সময়ে ভোপালে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শহরের একজন চিকিৎসক ডা: জিসি গৌতমকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ‘অনেক মৃত্যু সরকারি রেকর্ডে তোলা হচ্ছে না। সরকার চাইছে না জনমনে ভীতি তৈরি হোক।’

গুজরাটের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক সন্দেস তাদের সংবাদদাতাদের রাজ্যের বিভিন্ন শ্মশান ও গোরস্থানে পাঠিয়ে দেখেছে সরকার মৃত্যুর যে সংখ্যা দিচ্ছে প্রকৃত মৃত্যু তার কয়েকগুণ বেশি। পত্রিকাটি লিখছে, গুজরাটে প্রতিদিন গড়ে ৬১০ জন মারা যাচ্ছে।

একই অভিযোগ আসছে উত্তর প্রদেশ ও দিল্লির বেলাতেও।

এক অনুসন্ধানের ভারতের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনডিটিভি দেখতে পেয়েছে এক সপ্তাহে দিল্লিতে সরকারের দেয়া হিসেবের চেয়ে এক হাজার ১৫০ জন বেশি রোগী মারা গেছে। পুরো দেশে এমন অনেক অনুসন্ধানে মৃত্যু গোপন করার একই ধরণের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বলছে সারি সারি চিতা
অনেক শহরে শ্মশানগুলো শব দাহ করার নজিরবিহীন চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শ্মশান কর্মীদের দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। পোড়ানোর জন্য কাঠের জোগাড়, সেগুলো সাজানোর ভার মৃতের স্বজনদের ঘাড়ে এসে পড়ছে।

রাজধানী দিল্লির অবস্থা এতটাই সঙ্গিন যে খোলা মাঠ, পার্ক এমনকি গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাতেও অস্থায়ী শ্মশান তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ যেসব সরকারি শশ্মান দিল্লিতে রয়েছে তারা আর চাপ নিতে পারছে না।

লাশ পোড়ানোর জন্য তীব্র গরম আর চিতার আগুণের হলকার মধ্যে পিপিইতে মোড়া স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

দিল্লির সারাই কালে খান শ্মশানের ভেতর খালি জায়গায় গত কয়েক দিনে নতুন ২৭টি লাশ পোড়ানোর বেদি তৈরি করা হয়েছে। শ্মশানটির লাগোয়া পার্কে আরো ৮০টি বেদি তৈরি হয়েছে।

যমুনা নদীর তীর ঘেষা এলাকাগুলোতে অস্থায়ী শ্মশান তৈরির জন্য জায়গা খুঁজছে দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ।

সরাই কালে খান শ্মশানের একজন কর্মী ইংরেজি দৈনিক দি হিন্দুকে বলেছেন, শবদেহের চাপে তাদের ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সমানে কাজ করতে হচ্ছে। পূর্ব দিল্লির গাজিপুর শ্মশানের পার্কিং লটে গত ক’দিনে বাড়তি ২০টি বেদি তৈরি করা হয়েছে।

ওই শ্মশানের একজন ব্যবস্থাপক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে বলেছেন, লাশের চাপ এত বেড়ে গেছে যে নতুন বেদি তৈরি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। তারপরও লাশ নিয়ে আসার পর স্বজনদের তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নগরীর প্রায় সব শ্মশানের চিত্র কম-বেশি একই। করোনার চিকিৎসা ও লাশ পোড়াতে সাহায্য করছে এমন একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা সুনীল কুমার আলেদিয়া বলেন, অনেক শ্মশানে অতিরিক্ত বেদি তৈরির কোনো জায়গা নেই।

দিল্লির বিবিসির হিন্দি ভাষা বিভাগের সংবাদদাতা জুবায়ের আহমেদ সোমবার দিল্লির তিনটি শশ্মান ঘুরে এসে বলছেন, জীবনে একসাথে এত চিতা জ্বলতে তিনি কখনো দেখেননি। শ্মশানগুলোতে শোকার্ত স্বজনদের হাহাকার। লাশগুলো সবই করোনা রোগীদের। দেখলাম বৃদ্ধ, জোয়ান ও শিশুরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। মৃত স্বজনের লাশ চিতায় তোলার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন অনেক মানুষ। শ্মশানের মধ্যে খোলা জায়গায় চিতা চড়ানোর জন্য নতুন নতুন বেদি তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি হিসেবে দিল্লিতে গত কয়েক দিন ৩৫০ থেকে ৪০০ জন মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন, কিন্তু সোমবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য নগরীর তিনটি শ্মশানে গিয়ে কমপক্ষে ১০০ চিতা জ্বলতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, একসাথে ১০ থেকে ১২টি চিতা জ্বলছে। শ্মশান চত্বরে এত গরম যে মোবাইল ফোন ঠিকমত কাজ করছিলো না। সরাই কালে খান শ্মশানে গিয়ে জুবায়ের আহমেদ দেখেন, একজন মাত্র পণ্ডিত সেখানে সৎকারের ধর্মীয় আচারের কাজ করছেন। তার কথা বলারও সময় নেই।

ঘণ্টায় কতগুলো চিতায় আগুন জ্বালানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জবাব দিলেন ‘২৪ ঘণ্টা লাশ আসছে, হিসেব মনে রাখার মতো পরিস্থিতি তার এখন নেই।’

ওই সাংবাদিক বলছেন, আমি সন্ত্রাসী হামলা দেখেছি। হত্যাকাণ্ড দেখেছি, কিন্তু এ রকম গণহারে লাশ দাহ করার দৃশ্য কখনো দেখিনি।

এমনিতেই প্রচণ্ড গরম এখন দিল্লিতে। তারমধ্যে ক্রমাগত জ্বলন্ত চিতার আগুন। তাপ আসছে অতিরিক্ত। তারমধ্যে মাথা থেকে পিপিইতে ঢাকা কর্মী ও স্বজনরা লাশের কাজ করছেন।

ও শ্মশান থেকে বেরিয়ে সংবাদদাতা দেখেন বাইরে খোলা মাঠে পোড়ানোর জন্য ২০ থেকে ২৫টি বেদি তৈরির কাজ চলছে। কর্মীরা জানালেন, আগামী দিনগুলোতে লাশের চাপ আরো বাড়বে এই আশঙ্কা থেকে বাড়তি এই বেদি তৈরি করা হচ্ছে।

সিমাপুরি শ্মশানে গিয়েও সংবাদদাতা দেখতে পান খোলা জায়গায় বাড়তি বেদি তৈরির কাজ চলছে। সেখানে লাশ পোড়াতে সাহায্য করছে শিখদের একটি দাতব্য সংস্থা। ওই সংস্থার একজন কর্মী বললেন সিমাপুরিতে এখন প্রতিদিন এক শ’ এর বেশি লাশ পোড়ানো হচ্ছে।

দিল্লি ও আশপাশে কয়েক ডজন ছোট-বড় শ্মশান আছে। শ্মশানে গেলেই পরিষ্কার বোঝা যায় কোভিডের ভয়াবহ তাণ্ডব কীভাবে গ্রাস করেছে ভারতের রাজধানীকে।

সূত্র : বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss