1. Shokti24TV2020@gmail.com : Shokti 24 TV admin :
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

কুলসুমের যাবজ্জীবন সাজার বদলি খাটছেন মিনু, মুক্তির নির্দেশ

কদর শিকদার, বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১
  • ১২১ Time View

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুম আক্তারের বদলে কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে সন্তুষ্টি সাপেক্ষে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের (চতুর্থ আদালত) প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধী কুলসুম আক্তারকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরপরাধ মিনুর জেল খাটার ঘটনায় তিন আইনজীবী ও এক ক্লার্ককে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে কুলসুম হিসেবে মিনু হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইকবাল হোসেন। অন্যদিকে গত ৩১ মার্চ এ ঘটনা উচ্চ আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আইনজীবীকে এফিডেভিট দাখিল করতে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ায় বিষয়টি বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আসে।

সোমবার শুনানিতে ইকবাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এম এ নাসের ২০১৯ সালের মার্চে আপিল করার জন্য মামলাটি তার কাছে পাঠান। এম এ নাসেরের জুনিয়র আইনজীবী নূরুল আনোয়ার তার সঙ্গে দেখা করে নথি দিয়ে যান। বিলম্বের কারণে অপেশাদারত্বের অভিযোগ তুলে গত বছর এম এ নাসের এর আরেক জুনিয়র বিবেকানন্দ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবরে তার (ইকবাল) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরবর্তী সময়ে সৌরভ নামের এম এ নাসেরের ক্লার্ক (আইনজীবী সহকারী) অনাপত্তিপত্র ছাড়াই তার (ইকবাল) কাছ থেকে মামলার ফাইল নিয়ে যান।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই তিন আইনজীবী ও ক্লার্ককে তলব করেন। ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিতে প্রতারণার অভিযোগ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জানাতে ২৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় স্পেশাল পিপি এম এ নাসের, আইনজীবী নূরুল আনোয়ার ও বিবেকানন্দ চৌধুরী এবং ক্লার্ক সৌরভকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৮ জুন পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন আদালত।

এর আগে আদালতে মিনুর পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিচারিক তদন্তে চিহ্নিত হয়েছে যে ওই মামলায় মিনু আসামি ও দণ্ডিত নন। মিনুকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত। প্রকৃত অপরাধী কুলসুমকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ শুনানিতে অংশ নেন।

আদেশের পর শিশির মনির বলেন, হাইকোর্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের (চতুর্থ আদালত) সন্তুষ্টি সাপেক্ষে মিনু আক্তারকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা মিনু আক্তার মুক্তি পাচ্ছেন।

জানা গেছে, মুঠোফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর বেগমকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে পাঠানো হয় কুলসুমকে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) আদালত থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুম। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বিচারিক আদালত ওই মামলার রায় দেন। রায়ে কুলসুমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুম সেজে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আসেন মিনু আক্তার। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে কুলসুম হিসেবে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। এই আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। গত রোববার ও সোমবার শুনানি নিয়ে ওই আদেশ দেওয়া হয়।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মহিলা ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় কুলসুমের বদলে মিনুর সাজা খাটার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর রেজিস্ট্রারের ছায়ালিপিসহ গত ২১ মার্চ চট্টগ্রামের আদালতে একটি আবেদন দেন চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার (চলতি দায়িত্ব) মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরদিন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে মিনুকে হাজির করা হয়। সেদিনই মিনুর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।

মিনুর বক্তব্য অনুযায়ী, মর্জিনা নামের এক নারী তিন বছর আগে ডাল-চাল দেবেন বলে তাকে ঘর থেকে নিয়ে এসে জেলে ঢুকিয়ে দেন। তখন তিনি ভাসমান বস্তিঘরে ছিলেন। তার স্বামী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। মর্জিনা বলেছিলেন, রোজার পর তাকে জেল থেকে বের করবেন। তিনি এখন বের হতে চান। কুলসুমকে তিনি চেনেন না। চট্টগ্রামের আদালত মূল রেজিস্ট্রারটি আদালতে দাখিল করতে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারকে নির্দেশ দেন। রেজিস্ট্রারে থাকা আসামি কুলসুম আক্তারের ছবির (২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর) সঙ্গে মিনুর ছবির অমিল পাওয়া যায়।

এরপর গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রামের আদালত জরুরি ভিত্তিতে ওই উপনথি হাইকোর্টে পাঠাতে আদেশ দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) বিচারক শরীফুল আলম ভূঁঞার পাঠানো চিঠিসহ ওই মামলা সংশ্লিষ্ট উপনথি গত ২৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss