1. Shokti24TV2020@gmail.com : Shokti 24 TV admin :
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪২ অপরাহ্ন

আমেরিকার সাথে সংঘাতের জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ হচ্ছে উত্তর কোরিয়া!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১
  • ৩৪ Time View

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন বলেছেন, তার দেশকে আমেরিকার সাথে ‘সংলাপ ও সংঘাত’ দুটোর জন্যই প্রস্তুত হতে হবে, বিশেষ করে ‘সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি থাকতে হবে’।

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন সম্পর্কে এই প্রথম সরাসরি কোনো মন্তব্য করলেন কিম।

এর আগে আমেরিকান সরকার উত্তর কোরিয়ার সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলে উত্তর কোরিয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে তার পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে।

কিন্তু পিয়ংইয়ং বাববার সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে তার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে শুরু হওয়া শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেছেন কিম।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রের সম্মান রক্ষায় এবং আমাদের উন্নয়নের ধারা নিরপেক্ষভাবে বজায় রাখার স্বার্থে আমেরিকার সাথে সংঘাত ঘটলে তার জন্য আমাদের পুরোমাত্রায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র খবর অনুযায়ী, কিম বলেছেন, এর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতেও তাদের প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

কিম আরো বলেছেন, কোনোরকম ঘটনা ঘটলে উত্তর কোরিয়া ‘ক্ষিপ্রতার সাথে কঠোর’ পদক্ষেপ নেবে এবং ‘কোরিয় উপদ্বীপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল করার ব্যাপারে মনোযোগ দেবে’।

এই মন্তব্য করার দিন কয়েক আগে কিম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছিলেন যে দেশটিতে খাদ্য ঘাটতি নিয়ে উত্তর কোরিয়া উদ্বিগ্ন।

এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে জি-সেভেন শীর্ষ বৈঠকে বাইডেনসহ যোগদানকারী নেতারা উত্তর কোরিয়াকে তার পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করার এবং সংলাপ আবার শুরু করার আহ্বান জানান।

উদ্বেগময় সম্পর্ক
বাইডেন প্রশাসনের সাথে কিমের সম্পর্ক এখনো পর্যন্ত উত্তেজনা ও উদ্বেগে জর্জরিত।

আমেরিকার নির্বাচনের আগে কিমকে একজন ‘গুণ্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন বাইডেন।

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে উত্তর কোরিয়া তাদের শক্তিমত্তা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এক সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করে এবং সেখানে তাদের একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে।

এপ্রিল মাসে বাইডেন উত্তর কোরিয়াকে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য ‘বড় ধরনের হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন। পিয়ংইয়ং এই মন্তব্যে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলে, এই বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার প্রতি বাইডেন যে ‘বৈরী নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী’ সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।

ওয়াশিংটনও সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া বিষয়ে তাদের নীতির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং বলেছে, আমেরিকা কোরিয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার কাজ অব্যাহত রাখবে।

বাইডেন কূটনৈতিক পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে একই সাথে ‘কঠোর প্রতিরোধের’ প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য সচিব জেন সাকি বলেছেন, ‘একটা বিশাল দর-কষাকষির মাধ্যমে অর্জনের নীতিতে আমরা আগ্রহী নই, একই সাথে কৌশলগত ধৈর্য্যের ওপরও আমরা আস্থা রাখতে চাই না।’

তিনি বলেছেন, ‘আমেরিকা ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মতভাবে এগোতে চায় যে পথ তাদের জন্য খোলা আছে সেই পথে। আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার সাথে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে চায়।’

তিনি বলেন, তারা ‘বাস্তবসম্মত অগ্রগতি’ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চান।

কিম এর আগে বাইডেনের পূর্বসুরী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তিনবার দেখা করেছেন। কিন্তু পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়নি।

সোলে এউহা উম্যানস্ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর সহযোগী অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইসলি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পরিকল্পনাকে বিশ্লেষণ করেছেন এই ভাবে যে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্রদের সাথে কথা বলে তাদের মনোভাব বুঝতে চান এবং পাশাপাশি ‘ধাপে ধাপে কূটনৈতিক সংলাপ’ চালাতে চান।

‘বাইডেন প্রশাসন তাদের পরিকল্পনার কোনো রূপরেখা দেয়নি কারণ তারা পিয়ংইয়ংয়ের সাথে কথা বলার ব্যাপারে কোনো ধরাবাঁধা সময়সূচি বা অগ্রগতির ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে চায় না,’ বলছেন তিনি।

‘ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন কৌশল, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সাথে একটা সমন্বয় গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিরোধ উদ্যোগ জোরদার করবে,’ বলেছেন ইসলি।

বিশ্লেষণ : নারি কিম, বিবিসি কোরিয়ান বিভাগ
কিম জং আন একইসাথে ‘সংলাপ আর সংঘাত’-এর জন্য প্রস্তুতির নেয়ার যে কথা বলেছেন তার সাথে পুরোপুরি মিল রয়েছে উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে আমেরিকার দ্বৈত নীতির বার্তার- ‘কূটনীতি আর কঠোর প্রতিরোধ’। অর্থাৎ কিমের বক্তব্য আয়নায় বাইডেনের বক্তব্যের একটা প্রতিচ্ছবি।

এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উত্তর কোরিয়া যে বার্তা দিতে চাইছে সেটা হলো, নতুন মার্কিন প্রশাসন কী করে তা দেখার জন্য অপেক্ষার কৌশল।

তবে কিমের এই মিশ্র বার্তার পেছনে উত্তর কোরিয়া যে আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী তার একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে।

কিম ‘সংঘাতের’ জন্য পূর্ণ প্রস্তুতির কথা বললেও আমেরিকার সরাসরি কোনো সমালোচনা বা উস্কানিমূলক কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।

এর একটা কারণ সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তার ঘাটতি এবং করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে দেশটির উদ্বেগ।

দেশটির পরমাণু কর্মসূচির কারণে আরোপ করা কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মহামারীর বিস্তার রোধে সীমান্ত বন্ধ রাখার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।

ফলে উত্তর কোরিয়া সংলাপে আগ্রহী এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে আমেরিকা দেশটিকে পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার যে দাবি জানিয়েছে তা উত্তর কোরিয়া মেনে নেবে না এটা পরিষ্কার।

সূত্র : বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss