1. Shokti24TV2020@gmail.com : Shokti 24 TV admin :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ত্যাাগীদেরকেই চায় তৃনমূল নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৫৪ Time View
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই নতুন কমিটি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের শীর্ষ পদে আনতে চায় বিএনপি হাইকমান্ড। এজন্য নেতাদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। তবে ‘বহিরাগত’ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব গঠন না করার পক্ষে সংগঠনটির বর্তমান কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা। তারা জানান, বর্তমান কমিটির মধ্য থেকেই শীর্ষ দুই পদ দেওয়া হলে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাবে। বাইরে থেকে কাউকে আনা হলে সংগঠনে গতিশীলতা আসবে না।

সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনে আহ্বায়ক কমিটি না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির অন্তত এক ডজন নেতা। এ ছাড়াও শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারাসহ সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতাও। এর মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সহ-সম্পাদক তদবিরের জন্য লন্ডনেও গেছেন। এ নিয়ে সংগঠনটির তৃণমূলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেতারা জানান, কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা রয়েছেন যাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে অতীতে ছাত্রদল দুর্বল হয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে কমিটি কেনাবেচারও অভিযোগ আছে। এখন তারাই আবার স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ পদ পেতে লন্ডনে। এসব নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ড হাইকমান্ডের কাছে আছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অঙ্গ সংগঠনে পদ দিলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিচ্ছৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, দল পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরসহ বেশ কয়েকটি জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনগুলোও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে কৃষক দল ও জাসাসের কমিটি। পর্যায়ক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটিই নতুন করে সাজানো হবে।

তিনি বলেন, কমিটি পুনর্গঠনে যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং হবে। বিগত সময়ে হামলা-মামলা মোকাবিলা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তারাই অগ্রাধিকার পাবেন। কারণ, সামনে আমাদের কঠিন সময়। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। তাই আন্দোলনমুখী নেতৃত্বকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার মতামত নিয়েই এসব কমিটি করবেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এর মধ্যে জুয়েল আন্দোলন সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতা।

সাইফুল ইসলাম  ফিরোজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ও ছাত্রদলের  ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থাকাকালে   ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি দেশব্যাপী  ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসাবে পরিচিত।

এছাড়াও এ পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ।

সাধারণ সম্পাদকের পদ প্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক সর্দার মো. নূরুজ্জামান, সহ-দফতর সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এসএম জিলানী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওনুল হক রিয়াজ। এর বাইরে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব ও সাবেক সভাপতি রাজীব আহসানও আলোচনায় আছেন। এ দুজনও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষের এক বছর পর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সুপার ফাইভ কমিটিকে ১৪৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে পরিণত করে আংশিক কমিটি করা হয়। এরপর আরেক দফায় ১০ জনকে সদস্য ও কিছু উপদেষ্টা ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে কমিটি এখন ১৭২ সদস্যবিশিষ্ট।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান- ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকেই বিএনপির জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব তৈরি করতে হয়। সুতরাং এক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অন্য কোনো অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা উচিত নয়। এছাড়া কোনো কমিটি দুই বছর মেয়াদের বেশি সময় রাখলে সংগঠন তথা মূল দলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০১ সাল থেকে হিসাব করলে দেখা যায় ২০ বছর শেষ হয়েছে। অথচ ২ বছর পরপর যদি কমিটি গঠন করা হতো তাহলে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে ২০ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে মাত্র ছয়জন নেতা বের হয়েছেন।

নেতারা জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য বর্তমান তরুণ নেতাদের বিএনপির বিভিন্ন পদে পদায়ন করা উচিত। বিশেষ করে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিলে সারা দেশে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিএনপির দায়িত্বে আনতে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে বিএনপির জেলার দায়িত্বেও তাদের নেওয়া উচিত। এতে করে বিএনপিতে অন্তত অযোগ্যরা আসার সম্ভাবনা থাকবে না।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ছাত্রদলের সাবেক অনেক নেতা রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন, যাদের কোনো পদ নেই। নতুন কমিটিতে ‘সুপার ফাইভ’ ছাড়া বাকি অধিকাংশ পদে তাদের স্থান দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন ও যাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে-এমন নেতাদের একটি তালিকা বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে রয়েছে। তাদের স্বেচ্ছাসেবক দলে পদ দেওয়া হবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি দেওয়ার অতীত ইতিহাস ভালো নয়। তারা বছরের পর বছর পার করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেন। তাই স্বেচ্ছাসেবক দলে এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীতে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখেই কমিটি গঠন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss